সড়ক পথে ভুটান ভ্রমণ – ঢাকা টু থিম্পু: সুখী মানুষের দেশে (১ম পর্ব)

বিশাল বিশাল পাহাড়, সবুজ হলুদের সংমিশ্রণে ঘন পাইন বন, ঝর্না, গভীর উপত্যকা, পাহাড়ি সুরেলা নদী দেখতে দেখতে যখন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা প্রায়, মনে হচ্ছিল অনন্তকাল ধরে আমি এই পথ ধরে চলতেই থাকি। আমার কোনো গন্তব্যের প্রয়োজন নেই। পাহাড় কেটে আঁকাবাঁকা করে বানানো রাস্তায় নেই কোন জ্যাম, নেই কোন তাড়াহুরা, নেই অন্য কাউকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। নিদৃষ্ট স্থানেই সুশৃঙ্খলভাবে গাড়িগুলো পার্ক করা । যেখানে নেই কোন চুরির ভয়। গল্পের বইয়েও সম্ভবত এতো সভ্য আর স্বচ্ছ নগরীর উল্লেখ নেই। মানুষগুলো যেনো সরলতার উপমা। বিদেশি বলে যারা কখনো ঠকানোর চিন্তাও করেনা। দেখলেই খুব ভদ্র, বিনয়ী মনে হয়। যারা নিজের যা আছে তা নিয়েই খুব সুখে আছে।

বলছিলাম একটি সভ্য সুখী দেশের গল্প। ভুটান ! যাকে স্থানীয় আদীবাসীরা মাতৃভাষা জংখায় “ড্রুক ইয়ুল খাপ” নামে ডাকে। ছোট বেলায় আমরা পাঠ্যপুস্তকে যাকে চিনেছি বজ্র ড্রাগনের দেশ হিসেবে। ড্রুক ইয়ুল খাপ মানেই হচ্ছে বজ্র ড্রাগনের রাজ্য। ভুটান দক্ষিণ এশিয়ার রাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার একটি দেশ।

দেশটি ভারতীয় উপমহাদেশে হিমালয় পর্বতমালার পূর্বাংশে অবস্থিত। উত্তরে চীনের তিব্বত অঞ্চল, পশ্চিমে ভারতের সিকিম ও তিব্বতের চুম্বি উপত্যকা, পূর্বে অরুণাচল প্রদেশ এবং দক্ষিণে আসাম ও উত্তরবঙ্গ দ্বারা পরিবেষ্টিত।

ভূটান সার্কের একটি সদস্য রাষ্ট্র এবং মালদ্বীপের পর দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ। ২০১৭ সালের জরিপে ভুটানের জনসংখ্যা ৮০৭,৬১০। ভুটানের রাজধানী ও বৃহত্তম শহর থিম্পু।

ভ্রমণের জন্য ভুটানের মূল শহরগুলো হল থিম্পু, পারো, পুনাখা, বুমথাং, ওয়াংদু ফোড্রং ।

এবার আসি মূল ভ্রমন গল্পে…

ভুটান দুইভাবে যাওয়া যায়: এয়ারে এবং বাই রোডে। বলে রাখা ভালো ভুটান ভ্রমণের জন্য আগে থেকে কোন ভিসা ইস্যু করা লাগে না। ওরা অন এরাইভাল ভিসা ইস্যু করে। বাই এয়ারে গেলে শুধু পাসপোর্ট আর হোটেল বুকিং কপি দিয়েই যেকোন সময়ই চলে যাওয়া যায়। আমরা গিয়েছিলাম বাই রোডে। বাই রোডে যাওয়ার একমাত্র উপায় হলো ভারত হয়ে যাওয়া। এই জন্য দরকার ভারতের ট্রানজিট ভিসা। যেহেতু আমাদের ভ্রমণ প্লান ছিল বাই রোডে সেহেতু আমরা ভারতের ট্রানজিট ভিসা করে নিয়েছিলাম। ভারতের ট্রানজিট ভিসার মেয়াদ থাকে ১৫ দিন ( এই ১৫ দিনের মধ্যে যাওয়ার সময় ভুটান প্রবেশের আগে সর্বোচ্চ ৭২ ঘন্টা ও ভুটান থেকে ভারতে ফিরে আসার সময় ৭২ ঘন্টা ভারতে অবস্থান করতে পারবেন)। ৪ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে যমুনা ফিউচার পার্কে আইভ্যাক সেন্টারে ট্রানজিট ভিসার জন্য আবেদন করি। আমাদের ভ্রমণ তারিখ ছিলো ২০ ডিসেম্বর রাতে। ভারতের ট্রাজনিট ভিসার জন্য যত আগেই আবেদন করেন না কেন, আপনাকে ভিসা সহ পাসপোর্ট ফেরত দিবে ভ্রমণের ২/৩ দিন আগে। ১৯ ডিসেম্বর আইভ্যাক সেন্টার থেকে মেসেজ পেয়ে যমুনা ফিউচার পার্কে আইভ্যাক সেন্টার থেকে পাসপোর্ট নিয়ে আসলাম। মনে মনে ভয় ছিলো, ভিসা রিজেক্ট হয় কিনা !! এই প্রথম নিজেই সব কিছু রেডি করে এপ্লাই করেছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ কোন সমস্যা ছাড়াই আমরা ৩ জনই ভিসা পেয়ে গেলাম।

২০ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে রাত ৯ টার বাসে আগে থেকে করে রাখা টিকেটে ঢাকা কল্যাণপুর এস আর ট্রাভেলস এর বাসে করে রওনা দিলাম বুড়িমারির উদ্দেশ্যে। ভারত হয়ে ভুটান যাওয়ার জন্য আপনাকে ভিসা আবেদনের সময় BY ROAD CHANGRABANDHA/JAYGAON সিলেক্ট করতে হবে। বাংলাদেশের বুড়িমারি স্থলবন্দের ভারতের অংশের নাম চেংরাবান্ধা। আর ভুটান-ভারত বর্ডারের ভারত অংশের নাম জয়গাঁও। ভুটানের অংশের নাম ফুটশোলিং।

২১ ডিসেম্বর ২০১৯ ! সকাল ৯ টার মধ্যে আমরা বুড়িমারি স্থলবন্দরে পৌঁছে সকালের নাস্তা সেরে নেই। আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী বিখ্যাত বুড়ির হোটেলে নাস্তা করার ইচ্ছে থাকলেও সেখানে চাহিদামত নাস্তা না পেয়ে পাশের একটি হোটেলে নাস্তা সেরে চলে যাই বাংলাদেশ অংশের ইমিগ্রেশনে। গিয়ে দেখি মোটামুটি ভীর লেগে আছে। এক দালাল এসে প্রস্তাব দিলো, জন প্রতি ২৫০ টা করে দিলে সে সব কাজ করে দিবে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ টাকার মত বন্দর চার্জ সে দিয়ে দিবে। কিছুক্ষন অপেক্ষা করে তাকে দিয়েই কাজটা করিয়ে নেওয়ার সিদ্বান্ত নেই। তার কাছে পাসপোর্ট জমা দিলে সে ঘন্টাখানিকের মধ্যে সব কিছু প্রসেস করে দেয়। আমাদের আর কিছুই করা লাগেনি। পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার সময় সে আমাদের কাছে NOC চাইলো। NOC না থাকলে আরো নাকি ২০০ টাকা দিতে হবে। আমরা আগে থেকেই NOC সাথে করে নিয়ে গিয়েছিলাম। তাই আমাদের আর কোন টাকা দিতে হয়নি। পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সে আমাকে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পর্যন্ত যায়। দালালদের সাথে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের গোপন সম্পর্ক থাকায় তেমন কোন চেকিং করে না। দ্রুতই ভারতীয় অংশে চলে যাওয়া যায়। আপনার হাতে সময় থাকলে নিজেই কাজটা করে নিবেন। অনেক সময় ওরা টাকা না দিলে চ্যাকিং এর সময় ব্যাগ তছনছ করে।

ভারতীয় ইমিগ্রেশনে পৌঁছে দিয়ে দালাল আমাদেরকে ভারতীয় অংশের একজনের নাম্বার দিলো আর বললো তার কাছ থেকে যদি রুপি ভাংগিয়ে নেই আর ১০০ করে টাকা দেই তাহলে সেই সব কাজ করে দিবে। আমরা ভারতীয় অংশের দালালকে ফোন দিয়ে ওর কাউন্টারে চলে যাই। সে খুব দ্রুত ১০/১৫ মিনিটের মধ্যেই সব রেডি করে আমাদের লাইনে দাঁড়াতে বললো। অল্প সময়ের মধ্যেই ভারতীয় অংশের ইমিগ্রেশন শেষ করে অই লোকের কাউন্টার থেকে ডলার থেকে রুপিতে চেঞ্জ করে নেই। বলে রাখা ভালো, ভুটানে তাদের নিজস্ব মুদ্রা গুলট্রাম ও ইন্ডিয়ান রুপি দুইটাই চলে এবং একই রেট।

এবার আমাদের গন্তব্য ভারত-ভুটান বর্ডার যা জয়গাঁও নামে পরচিত। অই লোকের মাধ্যমেই আমরা ৩ জনের জন্য একটা ট্যাক্সি ঠিক করে নেই। ১৬০০ রুপি চাইলেও শেষে ১৫০০ তে রাজি হয়ে যায়। আমাদের ট্যাক্সির ড্রাইভার ছিল মুসলিম। নাম আব্দুল কাদির। প্রায় আড়াই ঘন্টার জার্নি শেষে আমরা জয়গাঁও পৌছে যাই। যাত্রা পথের শেষের দিকের রাস্তার সৌন্দর্য ছিল মুগ্ধ করার মত। রাস্তার দুইপাশে বিশাল বিশাল সমতল চা বাগান। জয়গাঁও নামার পর ট্যাক্সির ড্রাইভার জানালো এখানে একটি মুসলিম হোটেল আছে “বিসমিল্লাহ হোটেল”। সেখানে নাকি গরুর মাংস পাওয়া যায়। ইচ্ছে হলে যেন খেয়ে যাই। আর ভুটান থেকে ফেরার দিন যদি ওর ট্যাক্সিতেই আসতে চাই তাহলে যেন ওনাকে ফোন দিয়ে জানিয়ে রাখি। ভাড়া ১৫০০ রুপিই নিবে। আমরা ওনার নাম্বার সেভ করে রাখলাম।

ট্যাক্সি আমাদের জয়গাঁতে ভারতীয় ইইগ্রেশন সেন্টারের সামনে নামিয়ে দিয়েছিল। ইমিগ্রেশন সেন্টারে প্রবেশ করে বাহিরে বসে থাকা এক ব্যাক্তির রেজিস্টার বইয়ে কিছু তথ্য এন্ট্রি করে ভেতরে প্রবেশ করি। ১০/১৫ মিনিটেই আমাদের ইমিগ্রেশন শেষ হয়ে যাওয়ার পর একটু হেঁটে চলে যাই ভুটান গেইট পার হয়ে ভুটান ইমিগ্রেশন সেন্টারে। ভারত-ভুটান বর্ডার ওপেন থাকায় এখানে কোন চেকিং করা হয় না। নিদৃষ্ট এড়িয়ার সবাই আসা যাওয়া করতে পারে। ভুটান ইমিগ্রেশনে পৌঁছে আমরা একটি ফরম পূরন করে নেই। সেখানে কিছু তথ্য পূরন করা লাগে, যেমনঃ কতদিন থাকবো, কোন কোন কোন শহরে যাব, পাসপোর্টের কিছু তথ্য। ফরম পূরন করে সাথে পাসপোর্ট সাইজের ছবি, পাসপোর্টের ফটোকপি ও হোটেল বুকিং কপি তাদেরকে দিলাম। ইমিগ্রেশন থেকে ফিংগার প্রিন্ট নিয়ে ও ছবি উঠিয়ে ৭  দিনের অন এরাইভাল ভিসা দিয়ে দিলো। ফুটশোলিং এর এই বর্ডার থেকে শুধু মাত্র থিম্পু ও পারোর পার্মিশন দেওয়া হয়। অন্য শহর ভ্রমণের জন্য থিম্পু থেকে অনুমতি নিতে হয়।

আমরা আগে থেকেই ফেসবুকের মাধ্যমে ৬ দিনের জন্য ট্যাক্সি ও ৫ রাতের জন্য হোটেল বুকিং করে নেই। আমাদের ট্যাক্সি ও হোটেল বুকিং এর যাবতীয় কাজ Bhutan Wangchuk নামের অই স্থানীয় ভুটানি করে দেয়। ফলে আমাদের আর কষ্ট করতে হয়নি। ইমিগ্রেশন শেষ করে স্থানীয় এক ড্রাইভারের মোবাইল থেকে আমাদের ড্রাইভারকে কল দিয়ে আমাদের অবস্থান জানিয়ে দেই এবং সহজেই তাঁকে পেয়ে যাই। আমাদের ড্রাইভারের নাম ছিল Pema Dorji. তাঁকে পেয়ে আমরা জানালাম আমাদের একটি ভুটানের  টুরিস্ট সিম লাগবে। সে পাশেই একটি দোকানে নিয়ে যায়। সিম নিতে পাসপোর্টের কপি হলেই চলে। যদিও আমাদের কাছ থেকে নেয়নি। ১৫৫ রুপি দিয়ে ভুটানের B-Mobile এর একটি সিম নিয়ে নেই। এটি মূলত একটি প্যাকেজ সিম। যেখানে ১০০ রুপি রিচার্জ করা ছিল এবং সম্ববত ৪৯৯ এম্বি লোড করা ছিল।

সিম নিয়ে আমরা কিছুক্ষনের মধ্যেই থিম্পুর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি। ফুটশোলিং ভুটান বর্ডার থেকেই বিশাল সব পাহাড়ের দেখা পাওয়া যায়। ধীরে ধীরে আমরা আঁকা বাঁকা পাহাড় বেয়ে উপরের দিকে উঠতে লাগলাম। পথিমধ্যে আমাদের ড্রাইভার পেমা গাড়ি থামিয়ে আমাদের জন্য ফ্রেশ কমলা কিনে দিলো। ডিসেম্বরে কমলার সিজন থাকায় রাস্তার ধারে অনেক জায়গায় কমলা বিক্রি করতে দেখা যায়। ফ্রেস জিনিস মুখে দেওয়ার মজাই আলাদা। বাংলাদেশে অনেক কমলা খেয়েছি। কিন্তু ভুটানের এই কমলা মুখে দিয়ে মনে হলো ভিন্ন কিছু খেলাম। অনেক মিষ্টি আর সুঘ্রাণযুক্ত কমলা। এই পথে থিম্পু গেলে অবশ্যই এইসব কমলা ট্রাই পরখ উচিত। পেমার মাধ্যমে জানতে পারলাম এই এরিয়ার কমলা গুলো অনেক বেশী সুস্বাদু। থিম্পুতে এইগুলো পাব না।

রাস্তার দুপাশের অপার্থিব সৌন্দর্য দেখতে দেখতে এগিয়ে চললাম থিম্পুর দিকে। যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে নীল আকাশ, সুরেলা নদী, ঝর্ণা আর পাহাড়ের গা ঘেষে বেড়ে উঠা নানান রকম পাহাড়ি গাছের লাল, হলুদ আর সবুজ রংয়ের পাতারা। বিশ্বের একমাত্র কার্বন নেগেটিভ দেশ হবার একমাত্র কারনই এই হাজার হাজার পাহাড়ি রং বেরঙয়ের গাছ।

পথিমধ্যে কিছু ভিউ পয়েন্টে পেমা গাড়ি থামিয়ে ছবি তোলার সুযোগ করে দিল। আর বলে রাখলো যাত্রাপথে কোন জায়গা ভালো লাগলে যেন ওকে বলি, তাহলে ও গাড়ি থামাবে। ভুটানিরা স্থানিয় ভাষা জংখার পাশপাশি ভাল ইংরেজি বলতে পারে। আমাদের ড্রাইভার পেমার মাধ্যমে জানতে পারলাম স্কুলেই ওদের একান্ত নিজস্ব কিছু বিষয় ছাড়া অন্যান্য সাবজেক্ট ইংরেজি মাধ্যমে পড়ায়। তাই পেমার সাথে সহজেই ইংরেজিতে আমাদের কথোপকথন চালিয়ে নিতে পারছিলাম।

ভারত-ভুটান বর্ডার ফুটশোলিং থেকে থিম্পু পৌছাতে ৫ ঘন্টার মত সময় সময় লেগে যায়। বিকেল গড়িয়ে তখন সন্ধ্যা । সন্ধার কিছুক্ষন পর পেমা রাস্তার পাশেই একটি রেস্টুরেন্টে গাড়ি থামালো। দীর্ঘ যাত্রাপথে এখানে নাকি প্রায় সবাই যাত্রাবিরতি দেয়। আমরা রেস্টুরেন্টে ডুকলাম। মনে হচ্ছে বাড়ি ও রেস্টুরেন্ট একসাথে এটাচ করা। বাড়ির লোকজনই রেস্টুরেন্ট চালায়। অসাধারণ সব কারুকাজ। গুছানো সব কিছু। আমরা ফ্রেশ হয়ে ভেজিটেবল ফ্রাইড রাইস, এগ পজ, মিক্স ভেজিটেবল অর্ডার করলাম। ভুটানে ডিমের দাম অনেক বেশী। এগ পজ নিয়েছিলো ৬০ রুপি জনপ্রতি। খাওয়া দাওয়া শেষ করে আবার গাড়িতে উঠে বসি। আমাদের ৩ জনের টোটাল বিল আসলো ৬০০ রুপির মত।

সময় তখন রাত ৯ টার মত। বাংলাদেশ ও ভুটানের সময় একই। আবার গাড়ি চলতে শুরু করলো, দুপুরে শুধু কমলা খেয়েছিলাম তাই রাতে একটু বেশিই খাওয়া হয়ে যায়। কিছুক্ষন পর টের পেলাম কি ভুলটাই না করলাম। পেট ভর্তি থাকায় আঁকা বাঁকা রাস্তায় চলতে চলতে বমি আসতেছিলো। অনেক কষ্টে সামলে নিলাম। তাই ভুটানে গাড়িতে থাকা অবস্থা যত কম খাওয়া যায় তত ভালো। ভারি খাবার খেলে কষ্ট হয়ে যাবে।

রাত সাড়ে ১১ টার দিকে পেমা থিম্পুতে আমাদের জন্য আগেই ঠিক করে রাখা হোটেলে পৌছে দেয়। হোটেলের নাম ছিল- Hotel Kenny. আগে থেকে বুক করে না রাখলে এত রাতে হোটেল পাওয়া মুশকিল। কারণ, ওরা রাতের বেলা খুব তাড়াতাড়ি খাবার দোকানসহ সব কিছুই বন্ধ করে দেয় ৯ টার মধ্যেই। তাই বিষয়টা খেয়াল রাখা উচিত।

সাথে সবসময় কিছু শুকনা খাবার রাখবেন যেমন- খেজুর, বাদাম, বিস্কিট। আমরা বাংলাদেশ থেকে বাদাম ভাজা নিয়ে গিয়েছিলাম। এখানে স্ট্রিটফুড বলতে তেমন কিছুই নেই। কয়েকটা টুরিস্ট স্পট ছাড়া আর কোথাও খুজে পাবেননা। মাঝে মাঝে ইন্ডিয়ান কিছু খাবার দোকান খুজে পাবেন। ভুটানে কোন মসজিদ পাবেন না তাই আযানও শুনতে পাবেননা এখানে। ভুটান আর বাংলাদেশ সময় একই হওয়ায় নামাজটা সময় দেখে হোটেলেই পড়ে নিতে পারবেন।


মোটামুটি ভালোই ছিল আমাদের হোটেলটা। যেহেতু রাত, তাই জানালা দিয়ে বাহিরে কিছুই ঠাহর করতে পারলাম না। তখন অনেক ঠান্ডা ছিল, তাপমাত্রা -১ ডিগ্রি। এই তাপমাত্রায় বাথরুমে গরম পানির জন্য গিজার খুব প্রয়োজনীয় (হোটেল বুকিং এর ক্ষেত্রে এটা খেয়াল রাখা ভালো)। আমাদের বাথরুমে গিজার ছিল। সবাই গরম পানিতে ফ্রেশ হয়ে বাকী নামাজগুলো কসর আদায় করে নিলাম। সাথে থাকা শুকনো কিছু খাবার খেয়ে আজকের মত ঘুমিয়ে পরলাম। আগামীকালের টার্গেট থিম্পুর দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ।

এই পর্যন্ত আসতে আমাদের খরচঃ

  • ভিসা ফিঃ ৮২৪ টাকা
  • ট্রাভেল ট্যাক্সঃ ৫০০ টাকা (আমরা সোনালি ব্যাংক যমুনা ফিউচার পার্কের পাশের শাখা থেকে চালান রশিদের মাধ্যমে আগেই দিয়ে গিয়েছিলাম)।
  • ঢাকা-বুড়িমারি বাস টিকেটঃ ৬৫০ টাকা (নন এসি), (এসি) ৮৫০-১২০০ টাকা
  • সকালের নাস্তাঃ ৫০ টাকা
  • বর্ডারে স্পিড মানিঃ ৩৫০ টাকা (বাংলাদেশ অংশে ২৫০ টাকা ও ভারতীয় অংশেঃ ১০০ টাকা)
  • চেংরাবান্দা- জয়গাঃ ৫০০ রুপি (৪ জনের ট্যাক্সি), আমরা ছিলাম ৩ জন। মোট ১৫০০ রুপি নিয়েছিলো। সেই হিসেবে জন প্রতি ৫০০ রুপি।  
  • কমলা ২ কেজিঃ ২০০ রুপি
  • রাতের খাবারঃ ২০০ রুপি (জনপ্রতি), ৩ জনের ৬০০ রুপির মত বিল আসছিলো।

ভুটান ভ্রমণের অন্যান্য পর্বসমূহঃ

Leave a Comment