চাঁদপুরের মিনি কক্সবাজার ভ্রমণ ও ইলিশের বারবিকিউ তৈরী

চাঁদপুরের মিনি কক্সবাজার ভ্রমণ ও ইলিশের বারবিকিউ তৈরী

মিনি কক্সবাজার বাংলাদেশের চাঁদপুর জেলায় পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মিলনস্থলে অবস্থিত একটি পর্যটন কেন্দ্র। এর চারদিকে নদী হওয়ায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের মতো দেখায় তাই পর্যটকরা এর নাম দিয়েছে মিনি কক্সবাজার। স্থানীয়ভাবে বালু চর, পদ্মার চর ও মেঘনার চর নামেও এর পরিচিতি রয়েছে।

আমরা গিয়েছিলাম ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০। খুব ভোরে আমরা চলে যাই ঢাকা সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল। সকাল ৭ টা ২০ এ সোনার তরী লঞ্চে উঠে পরি চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে। দুপুর ১২ টার দিকে পৌঁছে যাই চাঁদপুর লঞ্চ ঘাট। সেখানে নেমে অটো রিকশায় করে এবার যাই মোহনার ঘাট। যেহেতু আমাদের আগের প্লান ছিল ইলিশের বারবিকিউ করার সেহেতু আমরা এখানে বড়স্টেশন মাছ ঘাট থেকে ইলিশ ও লাকরি কিনে নিয়ে যাই। ইলিশ নিয়েছিলো প্রতি কেজি ৮০০ করে। একেকটা ১২০০ গ্রামের মত সাইজ ছিলো।

বারবিকিউ এর জন্য প্রয়োজনীয় বাজার সদাই করে আমরা দুপুরের খাবার সেড়ে নেই। দুপুরের খাবার মেনুতে ছিলো সর্ষে ইলিশ, ইলিশ ভর্তা ও ডাল।

এবার ট্রলারে করে রওনা দিলাম মিনি কক্সবাজারের উদেশ্যে। ট্রলার থেকে নেমে চরটা ঘুরে দেখতে থাকলাম। আর আমাদের গ্রুপের কয়েজকন বারবিকিউ এর জন্য ইলিশ রেডি করতে লাগলো। হাটতে হাটতে একটু ভেতরের দিকে গেলাম। চরের ঘাটের দিকে অনেকটা কক্সবাজারের ছোঁয়া। ঢেউ ছিলো প্রচুর। আর ভেতরের দিকটায় সবুজের ছোঁয়া আর পাশে বয়ে যাওয়া ছোট খাল। কিছুদূর যাওয়ার পর স্থানীয় একজনকে জিজ্ঞেস করতেই বলে দিলো সামনের সাইড দিয়ে ফিরে আসার সহজ রাস্তা নেই। তাই যেদিক থেকে এসেছিলাম সেদিক দিয়েই ফিরে আসতে বললেন।

ফিরে এসে সবাই মিলে কিছুক্ষণ ফুটবল খেলে বারবিকিউ তৈরীর কাজে লেগে গেলাম। এই প্রথম ইলিশের বারবিকিউ তৈরী। ঘন্টা খানিকের মধ্যেই তৈরী হয়ে যায় সুস্বাদু ইলিশের বারবিকিউ। সবাই মিলে মজা করে খেলাম।

এদিকে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা প্রায়। এবার ফেরার পালা। মোহনার চর থেকে নিয়ে আসা রিজার্ভ ট্রলারে করে আবার ছুটে চললাম গন্তব্যের দিকে।

মিনি কক্সবাজার ভ্রমণ সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্য

ভ্রমণ খরচ

নৌ পথে লঞ্চ যাত্রা
ঢাকা – চাঁদপুর (লঞ্চ)
ডেক:- ১০০/-
দ্বিতীয় শ্রেণী (নন এসি চেয়ার):- ১৩০-১৫০/-
প্রথম শ্রেনী (এসি ইকোনোমিক চেয়ার):- ২২০-২৫০/-
বিজনেস ক্লাস (এসি বিজনেস চেয়ার):- ২৭০/-
সিঙ্গেল কেবিন (নন এসি) :- ৪০০/-
সিঙ্গেল কেবিন (এসি):- ৪৫০-৫০০/-
ডাবল কেবিন(নন এসি):- ৮০০/-
ডাবল কেবিন (নন এসি):- ৯০০/-
ভি আই পি কেবিন(সিঙ্গেল):- ১০০০/-
ভি আই পি কেবিন(ডাবল):- ২০০০/-
***বিশেষ দ্রষ্টব্য :- প্রতিটি টিকিট একজন ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য। সাথে অতিরিক্ত যাত্রী থাকলে তাদের জন্য একটি করে ডেক টিকিট সংগ্রহ করতে হবে।

চাঁদপুর লঞ্চ ঘাট – মোহনার ঘাট
অটো রিকশায় জনপ্রতি ভাড়া: ১০-১৫ টাকা

মোহনার ঘাট থেকে মিনি কক্সবাজার
ট্রলার রিজার্ভ: ৪০০ টাকা (আসা-যাওয়া)
জনপ্রতি লোকাল: ৫০-১০০ টাকা (আসা-যাওয়া)

ট্রলার চালক অতিথিদের থেকে আসা এবং যাওয়া ভাড়া একসাথে নিয়ে নেয়। সারাদিন ঘুরাঘুরি শেষে সেখান থেকেই আপনি ট্রলারে করে ফিরতে পারবেন। তখন কোনো ভাড়া নিবে না।

সড়ক পথে বাস যাত্রা:
ঢাকা সায়েদাবাদ বাস স্ট্যান্ড থেকে পদ্মা এক্সক্লুসিভ পরিবহন সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রতি ৩০ মিনিট পর পর চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে বাস ছাড়ে। ভাড়া নিবে জনপ্রতি মাত্র ২৭০ টাকা। আপনাকে নামতে হবে চাঁদপুর বাস স্টেশন। সেখান থেকে অটোরিক্সা করে আসতে হবে বড় স্টেশন এর তিন নদীর মোহনায়। ভাড়া নিবে মাত্র ১৫ থেকে ২০ টাকা। এরপর সেখান থেকে ট্রলারে করে মিনি কক্সবাজার।

যাওয়ার সঠিক সময়

শীতকালে এবং গ্রীষ্মের আগ মুহূর্ত চাঁদপুরের মিনি কক্সবাজার ভ্রমণের সেরা সময়। এ সময় চরের সৌন্দর্য সকলের মন কাড়ে।

মিনি কক্সবাজার ভ্রমনে সতর্কতা

  • কালবৈশাখী ঝড়ের সময় চরে ভ্রমন না করাই শ্রেয়।
  • চাঁদপুরের মোহনা খুব বিপদজনক স্থান। তাই এখানে তিন নদীর মিলিত হওয়ার ফলে যে ঘূর্ণায়মান অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে ভ্রমনের সময় তা পরিহার করুন।
  • সাতার না জানলে গোসলের সময় নদীর বেশ গভীরে যাবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *